অরিজিনাল কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বেশি রিচ ও আয়ের সুযোগ দিতে নীতিমালা হালনাগাদ করেছে মেটা। একই সঙ্গে নকল বা কপি করা কন্টেন্টের ভিউজ কমিয়ে দেওয়া এবং ফেক অ্যাকাউন্ট শনাক্তে নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা চলছে।
প্রযুক্তি প্রতিবেদক | ঢাকা
ফেসবুকে যাঁরা নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করেন, তাঁদের জন্য সুখবর। মেটা এখন তাঁদের আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং আয়ের সুযোগ বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে, অন্যের ভিডিও কপি করে বা সামান্য পরিবর্তন করে পোস্ট দেওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর দিন শেষ হয়ে আসছে।
✅ যা পরিবর্তন হচ্ছে
মেটা জানিয়েছে, ফিড ও রিলসে সুপারিশ বা রিকমেন্ডেশন পাওয়ার ক্ষেত্রে অরিজিনাল কন্টেন্টকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্রিয়েটরদের জন্য স্বচ্ছ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে তাঁরা বুঝতে পারেন ঠিক কী করলে তাঁদের কন্টেন্ট বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
ফলাফল ইতিমধ্যে দৃশ্যমান। ২০২৪ সালের শেষার্ধের তুলনায় ২০২৫ সালের শেষার্ধে অরিজিনাল রিলসের ভিউ ও দেখার সময় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে ফেক বা জাল অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধেও ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে—২ কোটিরও বেশি এ ধরনের অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বড় ক্রিয়েটরদের ফেক ধারণের অভিযোগ ৩৩ শতাংশ কমেছে।
✅’অরিজিনাল’ আর ‘নকল’-এর সীমারেখা
মেটা এবার স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনটি ‘অরিজিনাল’ আর কোনটি নয়। নিজে ধারণ করা বা তৈরি করা ভিডিও অরিজিনাল হিসেবে গণ্য হবে। অন্যের ভিডিও ব্যবহার করলেও সেটি অরিজিনাল বলে বিবেচিত হবে, যদি ক্রিয়েটর নিজে পর্দায় উপস্থিত থেকে নতুন বিশ্লেষণ বা তথ্য যোগ করেন।
তবে কিছু বিষয়কে স্পষ্টভাবে নকল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যের ভিডিওতে শুধু মুখের অভিব্যক্তি দিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো, কোনো সৃজনশীল ভূমিকা ছাড়াই একাধিক ক্লিপ জুড়ে দেওয়া, কিংবা ভিডিওতে শুধু বর্ডার বা ক্যাপশন যোগ করে পোস্ট দেওয়া—এগুলোর রিচ কমিয়ে দেওয়া হবে।
✅ নকল পথে গেলে যা হবে
ধারাবাহিকভাবে নকল কন্টেন্ট পোস্ট করলে পুরো পেজ বা প্রোফাইলটিই ‘নন-রিকমেন্ডেবল’ হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং স্থায়ীভাবে মনিটাইজেশন বন্ধ হয়ে যাবে। তবে কোনো কন্টেন্ট ভুলবশত নকল হিসেবে শনাক্ত হলে ক্রিয়েটর মেটার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আপিল করতে পারবেন।
✅ ফেক অ্যাকাউন্ট চেনার নতুন উপায়
২০২৬ সালে মেটা ‘পটেনশিয়াল ইমপারসোনেশন ডিটেকশন’ নামে একটি নতুন ফিচারের পরীক্ষা চালাচ্ছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্রিয়েটররা তাঁদের নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি ফেক অ্যাকাউন্ট দ্রুত খুঁজে পাবেন এবং একই জায়গা থেকে রিপোর্ট করতে পারবেন। প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ড থেকে এই সুবিধা ব্যবহারের আবেদন করা যাবে।
✅ বাংলাদেশের ক্রিয়েটরদের জন্য সুযোগ
দেশে ফেসবুভিত্তিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেটার এই নতুন নীতিমালা বাংলাদেশের সেই ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে যাঁরা নিজস্ব কণ্ঠস্বর ও সৃজনশীলতায় কন্টেন্ট তৈরি করছেন। তবে যাঁরা এতদিন শুধু কপি করে পার পেয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁদের জন্য এই পরিবর্তন বড় ধাক্কা হয়ে আসতে পারে।