অনলাইন বিজনেস উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি এতদিনে জানেন যে কপিরাইটিং একটি বিজনেসের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কনটেন্ট আপনাকে আপনার বিজনেসের যেমন রেসপন্স বাড়িয়ে দেয়, অডিয়েন্সকে এঙ্গেজড করে এবং সেলস বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ সাহায্য করে।
তবে, অনেক উদ্যোক্তা-ই কপিরাইটিংয়ে বেশ ভুল করে যা তাদের বিজনেসের জন্য বেশ ক্ষতি বয়ে আনে। এই ব্লগ পোস্টে, আমি ৫ টি সাধারণ কপিরাইটিং ভুল নিয়ে আলোচনা করছি, যা আপনার বিজনেসের ক্ষতি করছে এবং সেগুলো কীভাবে ঠিক করবেন তা শেয়ার করবো।
১। কনটেন্টে স্পেসিফিক অডিয়েন্সকে ঘিরে কথা বলছেন না
প্রথমেই বলি, আপনি যদি সবাইকে সাহায্য করতে চান আপনি আসলে কাউকেই সাহায্য করতে পারবেন না। একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কখনোই সবার সমস্যা সমাধান করতে পারে না, একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নির্দিষ্ট শ্রেণীর সমস্যা সমাধান করতে পারে। এটাকেই বলছি স্পেসিফিক অডিয়েন্সকে ঘিরে কথা বলা।
উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি অনেক সময় ব্যয় করে কনটেন্ট চিন্তা করলেন, সময় নিয়ে ভিডিও রেকর্ড করলেন, আরো সময় নিয়ে এডিটিং করলেন কিন্তু ক্যাম্পেইন করার পর সেলস আসছে না।
মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে যদি সবার উদ্দেশ্যে কথা বলেন কেউই আসবে না কিন্তু যদি বলেন যাদের একজন হলেও সন্তান আছে, যার বয়স ৩ বছর, এই শিশুদের জন্য দারুন একটি খেলনা এনেছেন, যা বাচ্চাদেরকে খুবই হ্যাপি করবে, বাবা-মায়ের প্রতি অত্যন্ত খুশি হবে, তখন দেখবেন যাদের ৩ বছরের সন্তান আছে তারা আপনার এখানে আসবে। – এটাকেই বলে অডিয়েন্স স্পেসিফাই করে কথা বলা।
তো আপনি অডিয়েন্স স্পেসিফিক করে কনটেন্ট তৈরি না করাটাই হচ্ছে আপনার প্রথম ভুল।
২। প্রোডাক্ট এর ফিচার বেশি কিন্তু বেনিফিটস কম বলেন, বললেও ইমোশনাল বেনিফিট খুবই কম হাইলাইটস হয়
নিজেকে কখনো প্রশ্ন করে দেখেছেন মানুষ কেন যাচাই-বাছাই করে কেনাকাটা করে? কিংবা কি এত যাচাই-বাছাই করে অথবা দামাদামি কেন করে?
দোকান – ১ : নারিকেল বিক্রেতা
উনি দোকানে কাগজ টাঙ্গিয়ে রেখেছে যেখানে লেখা, পাহাড়ি এলাকার নারিকেল, সদ্য আনা হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে, ভেতরে বেশ নারিকেল আছে, সাইজে বড় আছে।
দোকান – ২ : নারিকেল বিক্রেতা
উনিও দোকানে কাগজ টাঙ্গিয়ে লিখে রেখেছে যে, পাহাড়ি নারিকেল হওয়ায় খেতে বেশ সুস্বাদু, পিঠা তৈরিতে এই নারিকেল বেশি জনপ্রিয়, বড় সাইজের নারিকেল যার কারনে অধিক বেশি পাবেন, ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারি, প্রাকৃতিক এনার্জি-বুস্টার হিসেবেও কাজ করে।
এখন বলেন অডিয়েন্স কোন লেখার বিক্রেতার কাছে যাবে?
বেশির উদ্যোক্তা এরকম বেনিফিটে বেশি ফোকাস না দিয়ে ফিচার বা কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে। যার ফলে রেজাল্ট আসে না।
৩। কনটেন্টে ‘কারণ’ কম বলেন ফলে ভালো কপিরাইটিং হয় না
ভালো কনটেন্ট যেগুলো হয় তার পেছনে ‘অডিয়েন্স কেন আকৃষ্ট’ হবে তার কারণগুলো ব্যাকইন্ডে বলা থাকে। অডিয়েন্স কনটেন্ট দেখে সন্তুষ্ট হয় তারপর অর্ডার দিয়ে থাকে, এদিকে যিনি কনটেন্টে তথ্য দিচ্ছেন, সে ভিডিওতে অডিয়েন্স যেসব বিষয়গুলো জানতে চায় বা তাদের প্রয়োজন ঐ তথ্যগুলোই স্টেপ-বাই-স্টেপ বলে থাকে।
কেন এই প্রোডাক্ট, কেন এটি প্রিমিয়াম, কেন এটির দাম বেশি, কেন এটি সবার জন্য নয়, কেন এই প্রোডাক্ট এর স্টক বেশি নাই, কেন এই প্রোডাক্ট এর সাথে ডেলিভারী ফ্রি, কেন এটি অডিয়েন্সের নেয়া উচিত – এই কারণগুলোর উত্তর যত বেশি থাকবে অডিয়েন্স ততবেশি সেলসে কনভার্ট হতে থাকবে।
বিশেষ করে, কাস্টমার যে বিষয়গুলো শুনতে রাজি না সেগুলোতে ফোকাস দেয়া। যেমন- কাস্টমার চায় পরে কিনতে, তারা চায় না তার প্রয়োজনীয় জিনিসটা স্টক আউট হয়ে যাক কিন্তু আবার তখন ইন্সট্যান্ট কিনতেও চায় না। এক্ষেত্রে কেন স্টক লিমিট, কেন দ্রুত সংগ্রহ করা উচিত সেই কারণ বলা থাকলে তখনই অর্ডার করে দেওয়ার চান্স বেশি।
আর কেন রিটার্ন পলিসি রাখা হয়নি, যেমন – প্রোডাক্টটি এমন ভ্যালুয়েবল ও মানসম্মতভাবে তৈরি করা হয়েছে যেটা নষ্ট হওয়ার সুযোগও নেই রিটার্ন আসারও সম্ভাবনা নাই তাই রিটার্ন পলিসি রাখতেই হচ্ছে না।
আমি বোধহয়, বুঝাতে পেরেছি। মানুষ যেটা সহজে পছন্দ করে না সেই বিষয়গুলোর কারণগুলো বেশি বেশি বলা তাতে কেনার আগ্রহটা বৃদ্ধি পায়।